• +8801711353197



National President
Apxn. Nizam Uddin Pintu
Sony Rangs Show-Room, Firoza Bhaban, Opposite The Shahid Vhulu Sadium Main Road, Maijdee Court, Noakhali.
Phone : 01711353197,  
e-mail : nizamuddinpintu@gmail.com
Apex Club of Noakhali.

জাতীয় সভাপতির থিম -২০২০

বাংলাদেশে এপেক্স আন্দোলন ৫৯ বছর পেরিয়ে ৬০-এ পা রাখতে যাচ্ছে। মহাকালের বা সময়ের পরিক্রমায় এই সময়টুকু তেমন বেশি না হলেও রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিচারে ৫৯ বছর নেহাত কম সময় নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৬০ বছর বয়সে একজন মানুষ তাঁর জ্ঞান ও কর্ম দক্ষতার শীর্ষে পৌছায়। কিন্ত এই সময়ের মাঝে আর্ন্তজাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এপেক্স বাংলাদেশ কী তারঁ কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছুঁতে পেরেছে? সংগঠনটি তার প্রয়োজনীয় শক্তি ও সামর্থ্যরে কতটুকুইবা অর্জন করতে পেরেছে বা কাজে লাগাতে পারছে তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে ।

এপেক্স শব্দের অর্থ যেহেতু শীর্ষ বা চ‚ড়া ;সেহেতু এপেক্স ক্লাবের একজন সদস্য বা এপেক্সিয়ানকে সমাজে,নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে, চিন্তা-চেতনায়, কর্মে-দক্ষতায় যেমনি শীর্ষত্ব অর্জন , আদর্শ ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে তেমনি নিজ সংগঠন এপেক্স বাংলাদেশ’কেও সামাজিক ও সেবা সংগঠন সমূহের মাঝে সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে । সেরা হবার জন্য সকলকে একীভ‚ত হয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাজ করতে হবে।

এপেক্স আন্দোলনকে আরো গতিশীল ও কার্যকর করা একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। প্রাণপ্রিয় এই সংগঠনটি সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দৌড়–চ্ছে নাকি সময়ের পিছু পিছু দৌড়–চ্ছে তা-ই প্রায় ভাবায় সকলকে । আসলে আমরা গতিতে অনেকটাই মনে হয় পিছিয়ে রয়েছি। সকল এপেক্সিয়ানের সক্রিয় সহযোগিতায় আমাদের আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে, দৃষ্টিকে করতে হবে সামনের দিকে প্রসারিত। দিগন্ত পানে লক্ষ্যকে করতে হবে অটুট। দূরপানে যাত্রা করার কঠোর পরিশ্রম ও প্রস্তুতিই পারে এপেক্সকে আরো সামনে এগিয়ে নিতে। যেতে হবে বহুদূর,দিতে হবে দিগন্ত পাড়ি। সামনে এগুতে দৃষ্টি সামনের দিকে প্রসারিত করতে হবে।
সময় বয়ে গিয়েছে অনেক। সংগঠনটিকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে পেছন ফিরে ফিরে তাকানোর সময় নেই, অতীতের দিকে তাকিয়ে বারবার ব্যর্থতার হা হুতাশ না করে এপেক্স নামক এই ট্রেনটিকে দিতে হবে গতি ।

অতীতের সাফল্য গাথাঁকে বানাতে হবে প্রেরণা শক্তি, ব্যর্থতাকে দিতে হবে ছুড়ে আস্তাকুড়ে। আমাদের প্রিয় এই সংগঠনটি আজ এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। এই সংগঠনটিতে আজ ১২৫টি চাটার্ড ক্লাব আর প্রায় ১৫টি আনচাটার্ড ক্লাব নিয়ে বাংলাদেশে বৃহৎ একক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। প্রায় ১৪০টি বগির একটি বিশালাকার ট্রেন। এই ট্রেনটিকে এগিয়ে নিতে ও গতি দিতে প্রয়োজন শক্তিশালী ইঞ্জিন অর্থাৎ ক্লাব পর্যায় হতে জেলা পর্যায়, জেলা পর্যায় হতে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতৃত্বের চিন্তা,চেতনা ও কর্মপদ্ধতিতে আনতে হবে ব্যাপক পরিবর্তন। মনণে কর্মে আনতে হবে নতুনত্ব ও অভিনবত্ব। পুরাতন জরা-জীর্ণতাকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। বাধা-বিঘœকে দুমড়ে -মুচড়ে এগিয়ে যেতে হবে। ট্রেন এর চলার গতিতে বিঘœ ঘটলে যেমন ‘বগি’টিকে প্রথমে মেরামতের চেষ্টা করা হয়; সম্ভব না হলে বগিটিকে যেমন ফেলে রেখে এগিয়ে যেতে হয় ঠিক তেমনি এপেক্স নামক সংগঠনটির সদস্য ও কোন কোন ক্লাবের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত।

LOOKING FORWARD বা সম্মুখপানে দৃষ্টি প্রসারিত করা, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে প্রত্যয়ী হওয়া । ব্যক্তি বা সংগঠনের ক্ষেত্রে সামনে এগিয়ে যাবার এবং এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্য স্থির করতে না পারলে থমকে যেতে হয়,বারবার পিছিয়ে পড়তে হয় এবং খখনো কখনো থেমে যেতে হয়। সবকিছুরই একটি টার্গেট বা লক্ষ্য থাকে যা অজর্নে সবাইকে অত্যন্ত মনোযোগী,ধীরস্থির,অধ্যবসায়ী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পরিশ্রমী, লক্ষ্যভেদী আত্মপ্রত্যয়ী ; সর্বোপরি হতে হয় দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ।

ব্যক্তি বা সংগঠন প্রতিটির ক্ষেত্রেই ‘দূরদৃষ্টি’একান্ত প্রয়োজন; প্রয়োজন খুবই গোছালো,পরিকল্পিত , সহজ ও কার্যকর একটি ‘মাস্টার প্ল্যান’ । লক্ষ্যস্থির এর জন্য ‘কর্মপরিকল্পনায়’ টার্গেট এ্যাচিভ বা লক্ষ্য অজর্নে যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে তা হচ্ছে সামনের দিনগুলো বা নিকট ভবিষ্যতে অর্থ্যাৎ সামনের সপ্তাহ/মাসে কী হবে? কতটুকু অর্জন হবে, ৬মাস পর,১ বছর পর একইভাবে ৫ বছর,১০ বছর২৫ বছর, ৫০ বছর,৬০ বছর, ১০০ বছর, ২০০ বছর পর প্রিয় সংগঠন কিভাবে টিকে থাকবে,কতটুকু এগুতে হবে, সামনে এগিয়ে যেতে কী কী বাধা আসবে? কিভাবে বাধা জয় করে লক্ষ্যভেদে এগিয়ে যেতে হবে? দৃষ্টি সামনে প্রসারিত না করলে, এগিয়ে যেতে দৃঢ় প্রত্যয়ী না হলে, নিজের কাছে এবং সংগঠনের কাছে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ না হলে, আত্মতৃপ্ত হতে না পারলে কখনোই ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিকভাবে এগুনোর সুযোগ নেই, প্রাণ নেই। আর কোথাও থেমে থাকলে ,স্থিও হয়ে গোলক ধাঁধায় ঘুরপাক খেলে তা অনেকটা মৃত-ই বলা যায়। মৃতবৎ নিশ্চল- নিষ্প্রাণ সংগঠন সবসময়ই সদস্যদের কাছে যেমনি ক্লান্তিকর, বিরক্তিকর,একঘেয়ে হতাশাব্যঞ্জক; তেমনি স্বার্থপর, অলস,সেবাবিমুখ, কৃপণাভাবাপন্ন , কূট-কৌশল স্বভাব বিশিষ্ট অর্থ্যাৎ সুনাগরিক হওয়ার গুণগুলোর বিপরীত মানুষগুলো কখনোই সৌাহার্দপূর্ণ ও সেবামনষ্ক মানুষ-ই যেখানে হতে পারেনা ,সেখানে আর্দশভিত্তিক সংগঠনের একজন এপেক্সিয়ান ভাবা বা কল্পনা করাও শুধু অসম্ভব নয় অপরাধও বটে।

আমাদের প্রাণপ্রিয় আর্ন্তজাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এপেক্স বাংলাদেশ’ ২০২০ বর্ষে বাংলাদেশে তার পথচলার ৬০ বছর শুরু করবে এবং বিশ্বেও প্রায় ৯০ বছর পূর্ণ করতে চলছে । কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমরা কী পেরেছি আমাদের এই সংগঠনটিকে একটি সতিকারের ‘স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’ হিসেবে সার্বজনীন করতে ? আমাদের এই সংগঠনটি কী ব্র্যান্ডিং-এ কোন সম্মানজনক অবস্থানে আছে ? এই সংগঠনটিকে সর্বমহলে ‘প্রশংসিত’ বা সমাদৃত কিংবা বহুল পরিচিত করে তুলবার জন্য নিজেদের যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতাকে কতটুকু কাজে লাগিয়েছি ? এপেক্স এর যেই আদর্শ বা প্রতিটি সভা ও অনুষ্ঠানে IDEALS OF APEX বা ‘এপেক্স আদর্শ’ পাঠ করি তার কতটুকুইবা লালন করি,মানি।

ভাবার বিষয় ১৯৬১ সাল হতে ২০২০ সাল এই দীর্ঘ পথচলায় আমরা আমাদের দৃষ্টিকে সামনের দিকে প্রসারিত করে ‘দূরদৃষ্টি’ সম্পন্ন আদর্শ এপেক্সিয়ানের মতো প্রাণের সংগঠনটি ,নিজ নিজ ক্লাবটিকে এগিয়ে নেয়ার-দেয়ার কতটুকু চেষ্টা করেছি ? ৬০ বছরে একজন মানুষ তারঁ কর্মঅভিজ্ঞতায়, দক্ষতায় কর্মক্ষেত্রে অনন্য উচ্চতায় পৌঁেছ যায় । অথচ আমাদের এই প্রিয় সংগঠনটিকে ৫৯ হতে ৬০ বছরের প্রান্তে আজ দাঁিঁড়য়ে সংগঠনের অস্তিত্ব ও প্রাণ স্পন্দন খুজঁতে হচ্ছে। সদস্যদের আকাশ ছোঁয়া প্রত্যাশার ভীড়ে দাড়িঁয়ে প্রাপ্তির ‘শূন্য ঝুলি’টা হাতঁেড়বেড়াতে হচ্ছে।
Citizenship (সুনাগরিকত্ব) Service(সেবা) Fellowship(সৌহার্দ বা বন্ধুত্ব) এই তিনটি মটো’র একটিতেও কি আমরা বাংলাদেশে Model or Example বা দৃষ্টান্ত হতে পেরেছি । আমাদের সংগঠনের সদস্যরা অন্য সংগঠনে ঝুকঁছে, সেখানে গিয়ে নিজেদের প্রাণ খুজেঁ বেড়ায়।

বাংলাদেশে এপেক্স আন্দোলনের এই পথচলা যে খুবই মসৃণ ছিলো তা-ও কিন্তু নয়। তবে সকলের পরিশ্রমে এপেক্স বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ৫৮ বছরের পথ পরিক্রমায় অনেকটুকুই এগিয়েছে। কখনো নেতৃত্বে সাবলীলতা ও গতিশীলতা ছিলো ,আবার কখনোবা ছিলো মন্থর। এপেক্সের এই ইতিহাসটুকু সবই যে ছিলো সাফল্যের তা-ও তো নয়,ব্যর্থতাও রয়েছে প্রচুর।

৫৮ বছরে এপেক্স আন্দোলন এগিয়ে যাবার কথা ছিলো অনেক দূর । কিন্তু এখন মনে হয় অনেক সাফল্যের পরও আমরা পিছিয়ে রয়েছি অনেকটা পথ। আগামী নেতৃত্ব সেই ব্যর্থতাটুকু কাটিয়ে এপেক্স বাংলাদেশকে দ্রæত সময়ে পৌছেঁ দিবে কাঙ্খিত লক্ষ্যে । এপেক্স বাংলাদেশ টিকেঁ থাকলে অনেক মানুষ পারে কাঙ্খিত সেবা, এপেক্স চর্চা অব্যাহত থাকলে এই যান্ত্রিক পৃথিবী পাবে অনেক গুলো মানবিক ও সংবেদনশীল মানুষ; যাঁেদর হাতের আলোকবর্তিকা এই দেশের মানুষ ও আর মানবিকতাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বহুদূর। বিভিন্ন পর্যায়ের এপেক্স নেতৃত্ব অর্থাৎ ক্লাব হতে জেলা,জেলা হতে জাতীয় বোর্ড সকল ধরণের নেতৃত্ব যদি মনে করেন এপেক্স আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এটি আমার নেতৃত্বের দায়িত্ব, মালিকানার কর্তৃত্ব নয় ; তবেই এই দেশে এপেক্স আন্দোলন টিঁকে থাকবে, আসবে সাফল্য । আর তা না হলে একদিন আমাদের হারিয়ে যেতে হবে কালের অতল গহবরে।

এপেক্স আন্দোলনকে আরো বেশি দৃঢ় ও প্রতিষ্ঠিত করতে হলে এপেক্সিয়ানদের ক্লাব প্রতিষ্ঠার যেই মূল উদ্দেশ্যের একটি ‘ফেলোশিপ’বা সদস্যদের পারস্পরিক সৌর্হাদ্য যেমন সুদৃঢ় করা জরুরী তেমনি সমাজের অন্যান্য মানুষের সাথে সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় সৌর্হাদ্যপূর্ণ কার্যক্রম বহুগুনে বৃদ্ধি হওয়া প্রয়োজন।
এপেক্স আন্দোলনের অন্যতম মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘কমভাগ্যবানদের জন্য এপেক্সিয়ানদের নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া’। সৌহার্দ ও সুনাগরিকত্ব কার্যক্রমকে করতে হবে গতিশীল, হৃদয়গ্রাহী,আকর্ষণীয়, কার্যকরী এবং অবশ্যই ফলপ্রসূ।

সেবায় আনতে হবে বৈচিত্র ও নতুনত্ব। তবে সময় এসেছে এপেক্স আন্দোলনকে আরো বেগবান ও স্থায়ী করার জন্য স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নে আরো তৎপর হওয়া । স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নে সমভাবে অতীত ও বর্তমান নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে । স্থায়ী সেবা কার্যক্রমই পারবে এপেক্স বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে।

একজন এপেক্সিয়ানের রাষ্ট্রের প্রতি,সমাজের প্রতি,পরিবারের প্রতি সর্বপরি মানুষের প্রতি অনেক দায়বদ্ধতা রয়েছে। আর তাই প্রথমেই একজন অগ্রসর মানুষ হিসেবে একজন মানুষকে নিজেকে তৈরি করতে হয়। সমাজকে ও সংগঠনকে নেতৃত্ব দিতে যেসব যোগ্যতা ও গুণাবলী অর্জন করা প্রয়োজন প্রকৃত এপেক্স চর্চার মাধ্যমেই এই সবগুলো গুণ অর্জন সম্ভব। সিটিজেনশিপ বা সুনাগরিকত্বে এপেক্স বাংলাদেশের সময়োপযোগী ও আরো নতুনত্বের সমাবেশ ঘটবে, আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এপেক্স বাংলাদেশ এক অনন্য অবস্থানে পৌছুবে বলে আমার বিশ্বাস।

এই বাংলাদেশে এপেক্স আন্দোলন নতুন বছরে অর্থাৎ ৫৯ বছর হতে ৬০ বছরে পর্দাপনের এই সন্ধিক্ষণে প্রত্যাশা এই দেশে এপেক্স আন্দোলন শত বছর পেরিয়ে হাজার বছরে পা রাখবে ;আর আমরা এই সময়ের এপেক্সিয়ানরা বেচেঁ থাকবো সেই যুগ যুগ ধরে ।

আসুন, আমরা এপেক্সকে মনে-প্রাণে ভালোবাসি, আজকের উপর ভিত্তি করে আগামীতে এপেক্সকে স্বপ্নময় চ‚ড়ায় পৌছেঁ দিতে যুথবদ্ধ হয়ে সকলে কাজ করি। আসুন ২০২০ বর্ষের থিম LOOKING FORWARD কে অন্তরে ধারণ ও লালন করে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিজেদের এপেক্স চর্চা চালিয়ে যাই।
এপেক্স আন্দোলন দীর্ঘজীবী হোক ,এপেক্সের সুফল দেশের প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ুক এই প্রত্যাশা—।